দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় প্রাঙ্গণে এক কর্মচারীর বৌভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের চত্বর ব্যক্তিগত পারিবারিক অনুষ্ঠানে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার ও যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সরকারি ছুটির দিনে দুপুরে কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জানা গেছে, কার্যালয়ের কর্মচারী মোস্তফা কামালের বৌভাত উপলক্ষে প্রাঙ্গণটি ব্যবহারের অনুমতি দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
মোস্তফা কামাল ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন ঘাস প্রকল্পের মাঠ সহকারী হিসেবে কমিউনিটি এক্সটেনশন এজেন্ট (সিইএ) পদে কর্মরত। প্রকল্পটির আওতায় মাঠপর্যায়ে গবাদিপশুর পুষ্টি উন্নয়ন, উন্নত জাতের ঘাস চাষ সম্প্রসারণ, খামারিদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের কাজ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে মোস্তফা কামালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সমাজকর্মী আরিফুর রহমান বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিজের ব্যক্তিগত বাড়ি মনে করার সুযোগ নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানা জনগণের। সরকারি ছুটির দিন হলেও প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন কতটা আইনসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
'পজিটিভ বাংলাদেশ'-এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন বলেন, সাধারণত সরকারি অফিসের চত্বর বা দপ্তরে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠান করার অনুমতি থাকে না। সরকারি অফিস কেবল দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজের জন্য নির্ধারিত।
তবে অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবু সাঈম বলেন, সরকারি ছুটির দিন ছিল এবং কার্যালয়ের ক্যাম্পাস অনেক বড়। এতে জনসেবা বিঘ্নিত হয়নি। নালিতাবাড়ীতে কমিউনিটি সেন্টারও নেই। কার্যালয়ের এক কর্মচারী অনুমতি চাওয়ায় সবার সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সবাই জানেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাও বিষয়টি জানতেন। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন।
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক বলেন, কার্যালয়ের স্টাফ কোয়ার্টারে দাওয়াত দেওয়ায় তাঁরা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে বৌভাত আয়োজনের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার তাঁর নেই। এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও জানান।
শেরপুরের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানুল হক ভূঁইয়া বলেন, ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছে। এ বিষয়ে মোস্তফা কামাল তাঁর কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েছিলেন। তিনি ছুটির দিন হওয়ায় সমস্যা নেই বলে জানিয়েছিলেন। তবে সরকারি অফিস প্রাঙ্গণে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে কি না, সে বিষয়ে গেজেট আকারে কোনো বিধান রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই।
তিনি আরও বলেন, মোস্তফা কামাল তাঁদের দপ্তরের ঘাস প্রকল্পের মাঠ সহকারী। অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে তিনি কোনো লিখিত অনুমতি নেননি, মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন। যতটুকু জানেন, স্থানীয় ইউএনওর কাছ থেকেও অনুমতি নিয়েছিলেন মোস্তফা কামাল। অনুষ্ঠানে ইউএনও উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ড. শামসাদ জাহান শিরাজী বলেন, সরকারি অফিস চত্বরে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে কি না, সে বিষয়ে তাঁর সঠিক তথ্য জানা নেই। নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে এমন আয়োজনের বিষয়েও তিনি অবগত ছিলেন না।
তিনি বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানবেন। ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যে আই